প্রজাপতির নির্বন্ধ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এক আরব কলোনিয়াল যুগ (মুসলিম) হইতে অন্য আরেক ইউরোপীয় কলোনিয়াল যুগের ( খ্রিষ্টান) সন্ধিক্ষণে ভারতীয় আর্য কলোনির (সনাতন ধর্মসমূহ) বৈষয়িক পরিবর্তনের নিমিত্তে জাতি ধর্ম ও সংস্কৃতির যে আত্মশ্লাগা, তার এক প্রহসনমূলক মহড়া যেন প্রজাপ্রতির নির্বন্ধ। বিষ্ণুর রমনী অবতারে সাথে শৈলর পুরুষ অবতারে চির চিরকুমার সভার যে সাদৃশ্যানুমান অঙ্কিত হয়েছে। তাতে লৈঙ্গিক পরিচয় ও তার সঙ্কট নিয়ে ভারতীয় পূরাণ ও সাহিত্যে যে বিশ্বে অনন্য স্থান অধিকৃত করিয়া আছে তাহাই স্মরণ করিয়া দেয়। নারীর উচ্চ শিক্ষার সাথে যর্থাথ বিবাহের যে একটা প্রচ্ছন্ন বিরোধ ও সংকট রহিয়াছে তাহাকেই পরিস্ফুটন করিয়া তোলে। মধুসূদন অক্ষরবৃত্তছন্দর (মিত্রাক্ষর ছন্দ) বিপরীতে যেমন অমিত্রাক্ষর ছন্দের সূচনা করিয়াছিলেন। কালজয়ী মেঘনাদবদ কাব্য সৃজন করিয়াছিলেন। প্রজাপ্রতির নির্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ পরিহাস রসে সেই ছন্দ ও কাব্যর অনুকরণে আর্তনাদবদ কাব্য স্তবক প্যারোডি করিয়াছেন। এখনকার কালে কোন কবি, তাহার সমসাময়িক কোন কবিকে নিয়া এমন ব্যঙ্গ করিলে। সৃজনশীলতার দুর্ভিক্ষের উস্কানি দাতা হিসাবে আখ্যায়ায়িত হইতেন। বিলক্ষণ ভাগ্য সহায় থাকিলে ...